বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : রাজশাহীর পদ্মায় বর-কনেবাহী দুটি নৌকাডুবিতে নিখোঁজ থাকা শিশু রুবাইয়া আক্তার স্বর্ণার (১৩) মরদেহ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা সাতজনে দাঁড়াল।
রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে রাজশাহীর লালন শাহ্ মুক্তমঞ্চের সামনে পদ্মায় জেলেদের জালে তার মরদেহ উঠে আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মরদেহটি উদ্ধার করেন। এ ছাড়া বেলা ১১টার দিকে আরেকটি নৌকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ নিয়ে এ দুর্ঘটনার পর নদী থেকে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এ ছাড়া গত শুক্রবার রাতে নৌকাডুবির পরই মরিয়ম (৬) নামে এক শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এখনও কনে সুইটি খাতুন পূর্ণি (১৬) ও তার খালা আঁখি খাতুন (৪৮) নিখোঁজ রয়েছেন।
সর্বশেষ মৃতাবস্থায় উদ্ধার হওয়া শিশু রুবাইয়া কনে পূর্ণির ফুফাতো বোন। এ ছাড়া আরও যাদের মরদেহ পাওয়া গেছে তারা হলেন- পূর্ণির চাচা শামীম হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী মনি খাতুন (৩০), তাদের মেয়ে রশ্মি খাতুন (৭), কনের খালাতো ভাই এখলাস হোসেন (২৮), দুলাভাই রতন আলী (৩০) এবং তার মেয়ে মরিয়ম খাতুন (৬)।
কনে পূর্ণি রাজশাহীর পবা উপজেলার ডাঙেরহাট গ্রামের শাহিন আলীর মেয়ে। দেড় মাস আগে পদ্মার ওপারে একই উপজেলার চরখিদিরপুর গ্রামের ইনসার আলীর ছেলে রুমন আলীর (২৬) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠান পরে হয়। গত বৃহস্পতিবার কনের বাড়িতে অনুষ্ঠান ছিল।
বরপক্ষ কনেকে সেদিন চরে নিয়ে যায়। প্রথা অনুযায়ী, পর দিন শুক্রবার কনেপক্ষের লোকজন বর এবং বউকে আবার কনের বাড়িতে নিয়ে আসছিলেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর এলাকার বিপরীতে মাঝপদ্মায় দুটি নৌকায় ডুবে যায়। দুটি নৌকায় প্রায় ৫০-৫২ যাত্রী ছিলেন।
নৌকাডুবির পর ছোট আরেকটি নৌকা এবং বালুবাহী একটি ট্রলার ভাসমান মানুষদের উদ্ধার করে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুর রউফ বলেন, ডুবে যাওয়া নৌকা দুটিই উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও কনেসহ দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।
তাদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। বিআইডব্লিউটিএ, নৌপুলিশ এবং বিজিবিও উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।
নগরকন্ঠ.কম/এআর